দুটো ব্ল্যাক হোল ধাক্কা খেয়ে মিশে একটা হয়ে যেতে পারে। এটা বিজ্ঞানীদের জানা। কিন্তু উল্টোটা কি হতে পারে? একটা ব্ল্যাক হোল কি ভেঙে দুটো ছোট কৃষ্ণগহ্বর হতে পারে?
ব্ল্যাক হোলে মাধ্যাকর্ষণ এত প্রবল যে আলোও সেখান থেকে বেরোতে পারে না। এর চারপাশে একটা অদৃশ্য সীমানা থাকে। সেই সীমানা পেরোলে আর ফেরার পথ নেই। এই সীমানার নাম ইভেন্ট হরাইজন। ব্ল্যাক হোল ভাগ হওয়া মানে এই সীমানাটাই দুই টুকরো হয়ে যাওয়া।
একটা নতুন তাত্ত্বিক গবেষণা এই প্রশ্নের হিসাব করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তরটা "না"। হিসাব বলছে, যে ব্ল্যাক হোল একেবারে ঘোরে না, সেটা দুই ভাগ হতে পারে না। ঘুরতে থাকা বেশিরভাগ ব্ল্যাক হোলের বেলাতেও ভাগ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
ব্যতিক্রম শুধু এক জায়গায়। একটা ব্ল্যাক হোল কত জোরে ঘুরতে পারে, তার একটা তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ সীমা আছে। সেই সীমার কাছাকাছি ঘোরা ব্ল্যাক হোলের বেলায় ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা গবেষকরা বাদ দিতে পারেননি। খেয়াল রাখা দরকার, তাঁরা বলেননি যে এমনটা ঘটে। তাঁরা বলেছেন, হিসাব দিয়ে এটা নাকচ করা যায়নি।
গবেষকরা ডেনমার্ক, ফ্রান্স আর ইতালির। গবেষণাপত্রটি ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে Physical Review D জার্নালে ছাপা হয়েছে। এটা পিয়ার-রিভিউ হয়েছে। মানে, ছাপার আগে অন্য বিশেষজ্ঞরা লেখাটা যাচাই করেছেন। এর আগের খসড়া arXiv ওয়েবসাইটেও রয়েছে।
পুরো কাজটাই খাতা-কলমের হিসাব। কোনো দূরবিনের পর্যবেক্ষণ এতে নেই। কম্পিউটারে সিমুলেশনও চালানো হয়নি। গবেষকরা কয়েকটা আদর্শ, সরল কৃষ্ণগহ্বরের অবস্থা কল্পনা করে নিয়েছেন। সেসব অবস্থায় সবকিছু খুব ধীরে ধীরে বদলায়।
গবেষণাপত্রের নাম "When Black Holes Admit Pair-of-pants Topologies"। এখানে প্যান্টের কথাটা একটা আকারের বর্ণনা। একটা প্যান্টের কোমর একটাই, কিন্তু নিচে পা দুটো। একটা কৃষ্ণগহ্বরের সীমানা, সময়ের সঙ্গে দুটো হয়ে গেলে, স্থান আর সময় মিলিয়ে আঁকা ছবিতে আকারটা এমনই দাঁড়ায়। দুটো মিশে একটা হলে ছবিটা হয় উল্টো প্যান্টের মতো। কোনো জিনিস টানলে বা বাঁকালেও তার আকারের যে মৌলিক ধরন বদলায় না, গণিতে তাকে বলে টপোলজি (topology)।
গবেষকরা দুই ধরনের যুক্তি ব্যবহার করেছেন। প্রথমটা বিশৃঙ্খলার মাপ নিয়ে। প্রকৃতিতে কোনো বদ্ধ ব্যবস্থার মোট বিশৃঙ্খলা নিজে থেকে কমে না। এই মাপকে বলে এনট্রপি (entropy)। এই হিসাবে ঘূর্ণন না থাকলে ভাগ হওয়ার কোনও রাস্তা নেই। ঘূর্ণন থাকলে তা হবার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়।
দ্বিতীয় যুক্তিটা গতি নিয়ে। ভাগ হলে টুকরো দুটোকে একে অপরের থেকে ছিটকে দূরে সরে যেতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই শর্তটাই ভাগ হওয়া আটকে দেয়। শুধু প্রায় সর্বোচ্চ গতিতে ঘোরা কৃষ্ণগহ্বরের বেলায় দুই শর্ত একসঙ্গে পুরোপুরি বাধা দেয় না।
আমাদের রোজকার জীবনে এর সরাসরি কোনো প্রভাব নেই। তবে কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশের সবচেয়ে চরম বস্তুগুলোর একটা। সেখানে প্রকৃতির নিয়ম কতদূর খাটে, তা বোঝার কাজে এমন হিসাব সাহায্য করে। কোনটা নিশ্চিতভাবে অসম্ভব আর কোনটা এখনো অমীমাংসিত প্রশ্ন, সেই সীমারেখা টানাও বিজ্ঞানের কাজ।
প্রায় সর্বোচ্চ গতিতে ঘোরা কোনো কৃষ্ণগহ্বর বাস্তবে ভাগ হয় কি না, এই হিসাব তা বলতে পারে না। সেটা জানতে হলে মহাকাশ থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ লাগবে। এই গবেষণায় তেমন কোনো পর্যবেক্ষণ নেই।
জেনে রাখা ভালো
- এটা শুধু তাত্ত্বিক হিসাব। কোনো ব্ল্যাক হোলকে কখনো দুই ভাগ হতে দেখা যায়নি। গবেষণাপত্র বলছে, খুব জোরে ঘোরা কৃষ্ণগহ্বরের ভাগ হওয়া 'বাদ দেওয়া যায়নি'। এটা ঘটে, এমন কথা বলেনি।
- যে কৃষ্ণগহ্বর ঘোরে না, সেটা ভাগ হতে পারে না। বেশিরভাগ ঘূর্ণায়মান কৃষ্ণগহ্বরের বেলাতেও এটা প্রায় অসম্ভব। আর ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, গবেষকরা তার কোনো সংখ্যা দেননি।
