ছোটবেলায় আমরা অনেকেই পড়েছি, সৌরজগতে গ্রহ ন'টা – নবগ্রহ । ২০০৬ সালে প্লুটোকে সেই তালিকা থেকে সরানো হয়। তখন থেকে তাকে "বামন গ্রহ" বলা হয়। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই গেছে। নেপচুনের ওপারের অন্ধকারে আর কী কী লুকিয়ে আছে?
চিলির নতুন ভেরা সি. রুবিন মানমন্দির (অবজারভেটরি) সেই অন্ধকারে একটা বস্তুর খোঁজ পেয়েছে। আপাতত এর নাম ২০২৬ ইডি১৩৮ (2026 ED138)। বস্তুটা বামন গ্রহ হতে পারে। তবে সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।
নেপচুনের ওপারে সূর্যকে ঘোরা বস্তুদের বলে ট্রান্স-নেপচুনিয়ান অবজেক্ট। ২০২৬ ইডি১৩৮ এমনই একটা বস্তু। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্লুটোর চেয়ে একটু বেশি। প্লুটো নিজেই সূর্য থেকে গড়ে প্রায় ৫৯০ কোটি কিলোমিটার দূরে থাকে।
সূর্যকে একবার পাক দিতে বস্তুটার লাগে প্রায় ২৮৩ বছর। মানে ওর এক বছর আমাদের প্রায় তিন শতাব্দীর সমান। এর কক্ষপথ পুরোপুরি গোল নয়। তাই কিছু সময় এটা প্লুটোর গড় দূরত্বের চেয়েও সূর্যের কাছে চলে আসে।
চওড়ায় এটা আনুমানিক ৬০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার। ১৫০০ কিমি ধরলেও এটা প্লুটোর চেয়ে ছোট। প্লুটো চওড়ায় প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার।
এটা রুবিনের প্রথম বামন গ্রহ প্রার্থী। মানমন্দিরটা আগেই হাজারো গ্রহাণু খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু এত বড় সম্ভাব্য বস্তু এই প্রথম।
কীভাবে খোঁজ মিলল
রুবিন মানমন্দির রাতের পর রাত আকাশের ছবি তোলে। দূরের তারারা ছবিতে একই জায়গায় থাকে। সৌরজগতের বস্তু কয়েক রাতে একটু একটু সরে যায়। এই সরে যাওয়া বিন্দু দেখেই নতুন বস্তু চেনা যায়। ২০২৬ সালের ছবিতে ২০২৬ ইডি১৩৮ এভাবেই ধরা পড়ে।
এরপর পুরোনো ছবিও ঘেঁটে দেখা হয়। ডার্ক এনার্জি ক্যামেরায় ২০১৬ সাল থেকে তোলা ছবিতে বস্তুটা পাওয়া যায়। ২০১০ সালে ভিস্টা টেলিস্কোপের ছবিতেও এর দেখা মেলে। অনেক বছরের ছবি একসঙ্গে থাকলে কক্ষপথের হিসাব আরও পোক্ত হয়।
খবরটা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রতিষ্ঠান, নয়ারল্যাব (NOIRLab) আর স্ল্যাক (SLAC)। সৌরজগতের ছোট বস্তুদের হিসাব রাখে মাইনর প্ল্যানেট সেন্টার। তাদের দুটো নোটিশেও বস্তুটার কথা আছে। গ্রহবিজ্ঞানীদের ডিপিএস ২০২৬ সম্মেলনে এ নিয়ে একটা বক্তৃতাও হয়েছে।
বামন গ্রহ হতে কী লাগে
কোনো বস্তু যথেষ্ট ভারী হলে নিজের মাধ্যাকর্ষণ তাকে টেনে গোল করে ফেলে। বামন গ্রহ হওয়ার একটা বড় শর্ত এই গোল আকার। ২০২৬ ইডি১৩৮ গোল কি না, তা এখনও কেউ দেখাতে পারেনি। তাই বিজ্ঞানীরা একে বামন গ্রহের "প্রার্থী" বলছেন।
আকারের আন্দাজটাও এসেছে শুধু উজ্জ্বলতা থেকে। ধরুন, রাতে দূরের মাঠে দুজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। সাদা জামা পরা জনকে বেশ স্পষ্ট দেখায়। কালো জামা পরা জন প্রায় অন্ধকারে মিশে যায়। শুধু কতটা দেখা যাচ্ছে, তা থেকে কে কত বড় বলা কঠিন। বস্তুটার গা কতটা আলো প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটাও তেমনই অজানা। তাই আকারের আন্দাজ সুনির্দিষ্ট নয় – ৬০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ
সৌরজগতের দূর প্রান্তের এমন বস্তুগুলো সূর্য আর গ্রহদের জন্মের সময়কার অনেক তথ্য ধরে রেখেছে। তাই প্রতিটা নতুন খোঁজ নিজেদের সৌরজগতের ইতিহাস বুঝতে একটু করে সাহায্য করে। কেউ কেউ একে "ষষ্ঠ বামন গ্রহ" বলছে। কিন্তু বস্তুটা এখনও প্রার্থী মাত্র, তাই কথাটা ঠিক নয়।
যা এখনো জানা নেই
বস্তুটা গোল কি না, তা জানা যায়নি। এর আসল আকারও সরাসরি মাপা হয়নি। বামন গ্রহ বলার আগে এই দুটো প্রশ্নের উত্তর দরকার। ততদিন এর নামটাও অস্থায়ী: ২০২৬ ইডি১৩৮।
জেনে রাখা ভালো
- এটা এখনও বামন গ্রহের প্রার্থী, পাকা বামন গ্রহ নয়, কারণ বস্তুটা গোল কি না তা এখনও দেখা যায়নি। তাই কেউ কেউ একে 'ষষ্ঠ বামন গ্রহ' বললেও কথাটা ঠিক নয়। আকার মাপা হয়নি, উজ্জ্বলতা থেকে আন্দাজ করা হয়েছে ৬০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার, তাই আসল আকার জানা গেলে সংখ্যাটা অনেক বদলাতে পারে।এ নিয়ে এখনও কোনো গবেষণাপত্র ছাপা হয়নি; খবরটা এসেছে প্রেস বিজ্ঞপ্তি আর মাইনর প্ল্যানেট সেন্টারের নোটিশ থেকে, তাই অন্য বিজ্ঞানীরা এখনও খুঁটিয়ে যাচাই করার সুযোগ পাননি।
সূত্র
- New York Times Science
- None. Press release (NOIRLab noirlab2626 / SLAC), Minor Planet Electronic Circulars 2026-U85 and 2026-U87, and a DPS 2026 talk
